কামাল আতাতুর্ক : ধর্মনিরপেক্ষ তুরস্ক ও ফিলিস্তিনকে ইহুদিকরণ --
ইংরেজরা উসমানি খেলাফত থেকে মুক্তি পাওয়ার উদ্দেশ্যে মোস্তফা কামাল আতাতুর্ককে ক্ষমতায় বসাতে চায়। তাকে একজন নেতা হিসাবে গড়ে তুলতে চায়। তবে সে অল্পবয়সী ছিল। তাই ইংরেজরা উসমানি সাম্রাজ্য ও গ্রিসের মাঝে যুদ্ধ বাধিয়ে দেয় এবং তারা গ্রিসকে সহযোহিতা করে। মোস্তফা কামাল তুর্কি বাহিনীর নেতৃত্ব দেয় এবং ব্রিটেনের মদদপুষ্ট গ্রিক বাহিনীর ওপর নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন করে। এর মাধ্যমে মোস্তফা কামাল আতাতুর্কের খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে। পত্রপত্রিকায় তার ছবি-সহ সংবাদ প্রকাশ পেতে থাকে। রাজা ও রাষ্ট্রপ্রধানদের সঙ্গে তার দেখাসাক্ষাৎ শুরু হয়। ইংরেজরাও তাকে সমীহ করতে থাকে। উক্ত যুদ্ধের নথিপত্র ঘাঁটলে দেখবেন যে, ওই যুদ্ধে একজন মানুষও মারা যায়নি। সবটাই ছিল অভিনয় ও ছলনা। তবে মুসলমানরা প্রায় সকলেই এতে বিগলিত হয়ে পড়ে এবং আতাতুর্কের প্রতি ভক্তিতে গদগদ হয়ে যায়। এমনকি আমাদের বিখ্যাত মুসলিম কবি আহমাদ শাওকি তো তার ব্যাপারে বলেই ফেলেছেন যে,
আল্লাহু আকবার! কী বিস্ময়কর বিজয়! হে তুরস্কের খালিদ, আপনি তো
আরবের খালিদ ইবনুল ওয়ালিদ রা.-এর গৌরব ফিরিয়ে আনলেন!
আহমাদ শাওকি রহ. আতাতুর্কের এমন ভূয়সীপ্রশংসা করার কারণ হলো, তার ভেতরের বাস্তব অবস্থা তখনও তিনি পড়তে পারেননি। যখন তিনি তার প্রকৃত অবস্থা জানতে পারেন, তখন তিনি তুরস্কের শোকজ্ঞাপন করে এবং ইসলামি খেলাফতের পতনের পর মুসলমানদের সমবেদনা জানিয়ে দীর্ঘ এক কাব্য রচনা করেন।
অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলো, অবচেতন জনগোষ্ঠীর সমর্থনেই মোস্তফা কামাল আতাতুর্ক তুরস্কের মসনদে আরোহণ করে। এরপর সে অত্যন্ত অদ্ভুত সব কাজের প্রচলন করতে থাকে, যা দুঃখজনকভাবে পরবর্তী সময়ে ইসলামি বিশ্বের সর্বত্রই বাস্তবায়িত হয়। মোস্তফা কামালের অভিজ্ঞতাকে একজন দক্ষ ষ্ট্রনায়ক হিসাবে উপস্থাপন করা হয় যে, ধর্মের ভিত্তিতে নয় জাতীয়তাবাদের ভিত্তিতে রাষ্ট্রপরিচালনা করা যায়।
আতাতুর্ক ধর্মকে রাষ্ট্রব্যবস্থা থেকে সম্পূর্ণ পৃথক করে ফেলে। তার কুকীর্তির কিছু চিত্র নিম্নে তুলে ধরছি:
● সংবিধান থেকে রাষ্ট্রধর্ম ইসলামকে বাতিল করে ধর্মনিরপেক্ষ একটি রাষ্ট্র হিসাবে লেখা হয়। বক্ষ্যমাণ গ্রন্থ রচনার সময়ও তুরস্কের সংবিধানে এটি লেখা ছিল।
● শরিয়তের বিধানকে সম্পূর্ণ রহিত করে দেওয়া হয় এবং ইতালি ও সুইজারল্যান্ডের আইন প্রয়োগ করা হয়।
● নারীদের জন্য ইসলামি পর্দা নিষিদ্ধ করা হয়।
● ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা উদযাপনকে কয়েক বছর নিষিদ্ধ রাখা হয়।
● তুরস্কের মুসলমানদেরকে কয়েক বছর পর্যন্ত হজে যেতে বারণ করা হয়।
● বহু মসজিদ বন্ধ করে দেওয়া হয়। আয়া সোফিয়া মসজিদকে প্রথমে গির্জায় পরিণত করা হয়। তারপর গোডাউন ও এরপর জাদুঘর হিসাবে ব্যবহার করা হয়।
● আরবি ভাষায় আজান নিষিদ্ধ করে তুর্কি ভাষায় আজান দিতে বাধ্য করে।
● শাসনামলের শুরুতে তার আইনের প্রতিবাদকারী ৫০জনেরও অধিক আলেমকে হত্যা করে।
এই হলো বহু মানুষের আদর্শপুরুষ কামাল আতাতুর্ক। যারা তাকে আদর্শ মনে করে, জানি না তারা তার জীবনবৃত্তান্ত সম্পর্কে অবহিত কি না!! উপর্যুক্ত কথাগুলো তার শত্রুরা বলেনি, বরং তুর্কি সংবিধানেই বিদ্যমান আছে। তুর্কি আইনও এগুলোকে সমর্থন করে।
আহমাদ শাওকি রহ. যখন এ বিষয়গুলো সম্পর্কে জানতে পারেন, তখন অত্যন্ত বেদনার্ত কণ্ঠে বলেছিলেন,
নামাজ বিলাপ করছে! এক নির্লজ্জ দাঙ্গাবাজ ফেতনা সৃষ্টি করছে,
শরিয়ত নিয়ে তামাশা করছে।
ফতোয়া নিয়ে ঠাট্টা করছে, বিভ্রান্তিকর কথাবার্তা বলছে,
দেশে সুস্পষ্ট কুফরি কাজ চালু করেছে।
এটাই ছিল কামাল আতাতুর্কের তুরস্ক। মুসলমান ও ফিলিস্তিনসংক্রান্ত সকল বিষয় থেকে তুরস্ক বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিল।
হার্শেলের পরিকল্পনা, ব্রিটিশ বাহিনীর দখলদারত্বের সময় রাষ্ট্রপ্রতিষ্ঠার চিন্তা, খলিফা দ্বিতীয় আবদুল হামিদের পতন, ইংরেজদের প্রতিশ্রুতি এবং ১৯১৭ খ্রিষ্টাব্দে বেলফোর প্রতিশ্রুতি ইত্যাদির পর শুরু হয় সবচেয়ে বিপজ্জনক অধ্যায়। ১৯১৮ খ্রিষ্টাব্দ থেকে ১৯৪৮ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত ফিলিস্তিনকে ইহুদিকরণ চলে। অর্থাৎ ইহুদিদের জন্য কল্যাণকর উপায়ে ফিলিস্তিনে বসতি স্থাপন কার্যক্রম চলে।
সুলতান দ্বিতীয় আবদুল হামিদ রহ.-এর সময় ইহুদিদের সংখ্যা পাঁচ হাজার ছিল। ‘কমিটি অব ইউনিয়ন এন্ড প্রোগ্রেস’-এর আমলে ১৯০৯ খ্রিষ্টাব্দ থেকে ১৯১৭ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত তাদের সংখ্যা ৫০ হাজারে পৌঁছায়। তখন একাধিক পদ্ধতিতে ইহুদিকরণ কার্যক্রম চলে। এখানে আমাদের ভুলে গেলে চলবে না যে, ফিলিস্তিনে নিযুক্ত ইংরেজ প্রশাসনের প্রধানতম ব্যক্তি ছিল ইহুদি ও বেসামরিক লোক। তার নাম ছিল হার্বার্ট সামুয়েল।
.jpg)
mas allah
উত্তরমুছুন