আখিরাত চাও দুনিয়া চলে আসবে || If you wish for the hereafter, the world will come

আখিরাত চাও দুনিয়া চলে আসবে:

সর্বাবস্থায় আখিরাত চাইলে, আখিরাতের জন্য মেহনত করলে, তার সাথে দুনিয়ার সম্মানও অর্জিত হয়৷ যদিও সে ব্যক্তি তা ইচ্ছা না করে, তালাশ না করে। দুনিয়ার সম্মান কামনা করলে আখিরাতের সম্মান বাধাগ্রস্ত হয়ে পড়ে, এ দুটো একত্র হতে পারে না। সৌভাগ্যবান সে, যে ক্ষণস্থায়ী বিষয়ের উপর চিরস্থায়ী বিষয়কে প্রাধান্য দেয়। যেমনটা আবু মূসা আশআরি রাদিয়াল্লাহু আনহু এর সূত্রে বর্ণিত হাদিসে বলা হয়েছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন :

“যে ব্যক্তি দুনিয়াকে ভালোবাসল, সে তার আখিরাতকে ক্ষতিগ্রস্থ করল। আর যে আখিরাতকে ভালোবাসল, সে তার দুনিয়াকে ক্ষতিগ্রস্থ করল। সুতরাং ক্ষণস্থায়ী জিনিসের উপর তোমরা এমন জিনিসকে প্রাধান্য দাও, যেটা চিরস্থায়ী।”[মুসনাদ আহমাদ : ৪/৪১২, ইবনু হিব্বান : ২৪৭৩, আল হাহিম : ৪/৩০৮]

আবুল ফাতাহ আল বাসাতি রহিমাহুল্লাহ কী চমৎকার কথাই না বলেছেন,

“দুটি বিষয়, একটার সাথে আরেকটা মিলে না। তুমি কখনো দেখবে না, তারা পরস্পরে একত্র হয়েছে, মিশেছে।

অর্থাৎ দুনিয়ার নেতৃত্ব ও পদমর্যাদার সাথে আখিরাত অনুসন্ধান।

অতএব স্থায়ী বিষয়টি গ্রহণ করে অস্থায়ীটাকে ছেড়ে দাও।”

আলহামদুলিল্লাহ। এই কবিতাটির মাধ্যমে প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর হাদিস-

“ক্ষুধার্ত দুটো নেকড়ে বাঘ ছাগল পালে ছেড়ে দিলে যতটা না ক্ষতি সাধন করে, সম্মান ও সম্পদের লালসা দ্বীনের মধ্যে তার চেয়েও বেশি ক্ষতি সাধন করে।”

এর ব্যাখ্যা সমাপ্ত হলো।

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ তাআলার, যিনি আমাদেরকে এর শেষ পর্যন্ত পৌঁছার তাওফিক দিয়েছেন। তিনি যেন এর উপর আমাদের আমল করার তাওফিক দেন। দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর উপর, যার কথা ও বর্ণনা আমাদের জন্য পাথেয় এবং দুনিয়া ও আখিরাতের চূড়ান্ত সফলতার মাধ্যম।


**ধনসম্পদ ও পদমর্যাদার লোভ বই।
 লেখক : ইমাম ইবনু রজব হাম্বলি (রহঃ)

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নবীনতর পূর্বতন